পলাশবাড়িতে শিশু বায়েজিদ হত্যার আসামিকে পিটিয়ে হত্যা


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১৫, ২০২৩, ১২:১০ অপরাহ্ণ / ২১৮
পলাশবাড়িতে শিশু বায়েজিদ হত্যার আসামিকে পিটিয়ে হত্যা

প্রতিনিধি, পলাশবাড়ী
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে চাঞ্চল্যকর শিশু আব্দুল্লাহ ওরফে বায়েজিদ হত্যা মামলার অন্যতম সন্দেহভাজন আসামি সাইফুল ইসলাম ওরফে সিরিকুলকে (৫০) পিটিয়ে হত্যা করেছে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা। পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরজু মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহত সাইফুল ইসলাম ওরফে সিরিকুল উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের বালুখোলা গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে। হত্যার শিকার চার বছরের শিশু বায়েজিদ একই গ্রামের তাহারুল ইসলাম ব্যাপারি ও রাহেনা বেগম দম্পতির ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৪ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার মনোহরপুর ঘোড়াবান্দা চৌরাস্তা বাজারে মুকুলের হোটেলে চা খেতে আসেন সাইফুল ইসলাম সিরিকুল। এ সময় বালুখোলা গ্রামের শতশত উত্তেজিত নারী-পুরুষ চায়ের দোকানের ভিতর থেকে তাকে টেনে-হেঁচড়ে বের করে আনেন। এরপর তারা যে যার মতো লাঠিসোঁটা দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত, কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে ঘটনাস্থলেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফেলে রেখে চলে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ সিরিকুলকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেলা হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বর্তমানে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ওসি বলেন, শিশু বায়েজিদ হত্যার পিছনে এলাকাবাসী মূল অভিযুক্ত রোমানের বাবা সাইফুল ইসলাম ওরফে সিরিকুলকে সন্দেহ করে আসছিলো। সে কারণে সন্দেহভাজন হিসেবে তাকে পলাতক অবস্থায় ২৬ মে বগুড়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে জামিনে তিনি বেরিয়ে আসেন।
এদিকে আইন নিজ হাতে তুলে নেওয়ার অভিযোগে এ পর্যন্ত স্থানীয় ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে’।
এর আগে গত ৮ মে বাড়ির সামনে খেলা করতে গিয়ে বালুখোলা গ্রামের সৌদি প্রবাসী তাহারুল ইসলাম ব্যাপারির চার বছরের শিশু আব্দুল্লাহ ওরফে বায়েজিদ নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের ৫ দিন পর ১৩ মে সন্ধ্যায় বালুখোলা গ্রামের ধানক্ষেত থেকে শিশু বায়েজিদের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুর মা রাহেনা বেগম বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে তদন্ত চলাকালীন পুলিশ সাইফুল ইসলাম ওরফে সিরিকুলের ছেলে রোমানের দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী জানতে পারেন, প্রবাসী তাহারুল ইসলাম ব্যাপারির ৮ম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ের সাথে তার বিয়ে না দেওয়ার প্রতিশোধ হিসেবে শিশু বায়েজিদকে হত্যা করা হয়েছে।