উত্তরাঞ্চলে আশির্ধো বয়সীর সংখ্যা ৬ লাখ ।। ৪৯শতাংশের জীবন-জীবিকা চলছে নির্ভরশীলতায়


প্রকাশের সময় : মার্চ ২৮, ২০২৪, ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ / ৯৫
উত্তরাঞ্চলে আশির্ধো বয়সীর সংখ্যা ৬ লাখ ।। ৪৯শতাংশের জীবন-জীবিকা চলছে নির্ভরশীলতায়

আফতাব হোসেন:
রংপুর বিভাগের আট জেলায় মোট জনসংখ্যার পঁয়ষট্টির্ধো উপরে বয়সীর বেশির মানুষের জীবন চলছে অন্যের উপর নির্ভর করে। সরকারি ভাতা ও স্বজনদের করুনা আর সহানুভূতির জীবনে খুব বেশি ভালো নেই বয়স্করা।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এর তথ্য অনুযায়ী, রংপুর বিভাগের গাইবান্ধা, রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাও ও দিনাজপুর জেলায় পয়ষট্টির্ধো বয়সী মানুষের সংখ্যা ১১ লাখ ১৬হাজার ৯৯৯ জন। এরমধ্যে গ্রামে বসবাস করে ৮লাখ ৯৮হাজার ৪৫৫ জন এবং শহরে ২লাখ ১৮হাজার ৫৪৪জন। বিবিএস এর তথ্য অনুযায়ী মোট বয়স্কদের মধ্যে ৪৯.২৬ শতাংশই অন্যের উপর নির্ভরশীলতায় জীবনযাপন করছে।
গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার উদাখালী ইউনিয়নের সর্দারপাড়া গ্রামের মরিয়ম বেওয়া। বয়স শতবছর ছুই ছুই হলেও সরকারের বসস্কভাতায় যা পাচ্ছেন তা দিয়ে চলছে জীবনজীবিকার ব্যয়ভার।
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার কালুরপাড়া গ্রামের মানিকজান বেওয়া। জমি-জমা বলতে কিছু নেই। স্বামী মৃত্যুর পর সন্তানও পৃথক হয়ে সংসার গড়েছেন। বয়স আশি পার হয়েছে। এখন শরীরে হেটে চলে ভিক্ষা করার শক্তি ও সামর্থ দুটোই হারিয়ে ফেলেছেন। এখন এই বৃদ্ধা অন্যের দয়া দক্ষিণায় সারাদিন একমুঠো খেয়ে না খেয়ে উঠানের গন্ডির মধ্যেই জীবনের শেষ সময় পার করছেন। সদর উপজেলার বোয়ালী গ্রামের মরিয়ম বেগমের ছেলে মেয়েসহ ৪ সন্তান। অকালে স্বামীর মৃত্যুর পর ছেলে-মেয়েদের বিয়ে দিলে সবাই কাজের সন্ধানে পাড়ি জমায় রাজধানীতে। এরপর অসহায় এই বৃদ্ধা জীবন বাঁচানোর তাগিদে ভিক্ষা করেই চলতে থাকেন। প্রায় ২০ বছর ধরে তিনি বিধবা অথবা বয়স্কভাতার জন্য স্থানীয় মেম্বর-চেয়ারম্যান বাড়ি বাড়ি ধর্ণা দেন; কিন্তু কোন কাজই হয়নি। এখন নানা রোগব্যাধি আর বয়সের ভারে ভিক্ষা জন্যও বেরুতে পারেন না। নাতি-নাতনি আর পাড়া প্রতিবেশিদের দয়ায় চলে দু-একবেলা একটু করে খাবার। এই গ্রামেরই রেজিয়া বেগম (৮১), ছকিনা বেওয়া (৮০), সালেহা বেওয়া (৮৬), জরিনা বেওয়া (৯০) এদের কারো ভাগ্যে বয়স্ক কিংবা বিধবা ভাতারকার্ড হলেও বেশিরভাগ বয়স্করা এই তালিকাভুক্ত হতে পারেনি।
সাঘাটার অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক ইমান আলী জানান, সরকারি পেনশন পেয়ে কোনমতে দিন পার হচ্ছে। তবে যা পাচ্ছেন তা দিয়ে ওষুধপত্র আর দৈনন্দিন ব্যয় পার করা কঠিন হয়েছে।
অনেক আগেই স্বামী মারা গেছে। দু’ছেলে কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে বাড়িতে বসে আছে। তাদের দেখার লোক নাই, আমাকে কে দেখবে। সরকারও আমাকে সহায়তা করে না, জীবন চলাই কঠিন।
সাঘাটা হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম মন্ডল জানান, বর্তমান সরকার একটি যুগোপযোগী পদক্ষেপ নিয়েছে সার্বজনীন পেনশন স্কীম। তিনি বলেন এই পেনশন স্কীমে সবাই আসলে তাহলে অন্যের উপর নির্ভর করে চলতে হবে না।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গণউন্নয়ন কেন্দ্রের নির্বাহী প্রধান জানান, বর্তমান সরকারের সার্বজনীন পেনশন স্কীম বেসরকারি চাকুরীজীবীদের জন্য খুবই সহায়ক। কেননা এই স্কীমের মাধ্যমে চাকুরী শেষে নিশ্চিত জীবন যাপন করতে পারবে।
গাইবান্ধা সমাজ সেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ফজলুল হক বলেন, সরকারি অনলাইনে বয়স্কদের তালিকাভুক্ত সহায়তা করে যাচ্ছে। তবে সবাইকে এই তালিকাভুক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে তিনি বলেন। তবে, সরকারের পরিকল্পনা আছে অসহায় ও দরিদ্রদের অগ্রাধিকার দিয়ে সুবিধা প্রদান করা।
গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক কাজী নাহিদ রসুল জানান, বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু বেড়ে যাচ্ছে। আগামীতে বছর বয়স্ক ও বেকার মানুষের সংখ্যা বাড়বে। একারণে বর্তমান সরকার মানুষজনের পরনির্ভরশীলতা কমাতে সার্বজনীন পেনশন স্কীম চালু করেছে। ইতোমধ্যে এই স্কীমে মানুষজন নিবন্ধন শুরু করেছে। এটি সার্বজনীন হলে পরনির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা খাকবে না বলে তিনি জানান।